
ভারতীয়দের একটি বিশেষ উৎসব হল রাখি বন্ধন উৎসব। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে রাখি বন্ধন উৎসবের প্রচলন রয়েছে। এই দিনটি বিশেষত ভাই বোনেদের মধ্যে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার একটি বিশেষ উৎসবের দিন।
এবার রাখিতে পঞ্চ মহাযোগ।৩০ ও ৩১ তারিখ পালিত হবে এই উৎসব। ভাই-বোনের সম্পর্কের এক বিশেষ দিন এটি। এই দিন ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় জন্য তার হাতে রাখি বাঁধে দিদি ও বোনেরা। তেমনই দিদি ও বোনকে সারা জীবন সকল জটিল পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন ভাইয়েরা। সঙ্গে হয় মিষ্টি মুখ ও উপহার বিনিময়।

রাখি বন্ধন উৎসব ঘিরে রয়েছে নানান পৌরাণিক, ঐতিহাসিক কাহিনী। কথিত আছে, সুভদ্রা কৃষ্ণের ছোট বোন, কৃষ্ণ সুভদ্রাকে প্রচন্ড ভালোবাসতেন তবে আপন বোন না হওয়ায় দ্রৌপদী ছিলেন কৃষ্ণের অতীব স্নেহভাজন একজন। একদিন একটু অভিমান বসত কৃষ্ণকে সুভদ্রা জিজ্ঞাসা করে এটার কারণ কি? উত্তরে কৃষ্ণ জানান যথাসময়ে তুমি এর সঠিক কারণ বুঝতে পারবে।ঘটনা ঠিক কিছুদিন পর কৃষ্ণের হাত কেটে যায়। হাত কেটে অনেক রক্ত পড়ছিল, তা দেখে সুভদ্রা রক্ত বন্ধ করবার জন্য কাপড় খুঁজছিলেন, তবে আশেপাশে কোথাও তিনি সাধারণ কাপড় পাচ্ছিলেন না,

সেই সময়ে দ্রৌপদীও সেখানে আসেন। তিনি বিন্দুমাত্র দেরি না করে তার নিজের মূল্যবান রেশমের শাড়ি ছিঁড়ে কৃষ্ণের হাতে বেঁধে দেন। তার কিছুক্ষণ পর কৃষ্ণের কাটা জায়গা থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয়। সেই সময়ে কৃষ্ণ সুভদ্রাকে ডেকে বলেন এবার বুঝতে পারছ আমি কেন দ্রৌপদীকে এত স্নেহ করি এবং ভালোবাসি? আসল বিষয়টি বুঝতে পারে সুভদ্রা খুব লজ্জা পেয়ে যান। তখন তিনি বুঝতে পারেন দাদা কৃষ্ণের চেয়ে নিজের দামি বস্ত্র খুব সামান্য দ্রৌপদীর কাছে। ভাইয়ের কষ্ট দূর করবার জন্য সে মরিয়া হয়ে পড়েছিল, একদিন রাজসভায় শ্রীকৃষ্ণ দ্রৌপদীকে চরম কলঙ্ক থেকেও রক্ষা করেছিলেন বলে শোনা যায়।

এরপর থেকে রাখি বন্ধন উৎসবের প্রচলন হয় দেশে। আর এই রাখি বন্ধন উৎসব রক্ষা বন্ধন অর্থাৎ ভাই-বোনেদের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত করার একটি উৎসব।
এ বছর রাখি বন্ধনের উৎসব ৩০ এবং ৩১ দুদিন পালন করা হবে। আসলে রাখি বন্ধনের সময় ভদ্রা দু’দিন ধরে চলবে। তাই রাখি বন্ধনও দু’দিন ধরেই পড়েছে। ভদ্রাকাল ৩০ অগাস্ট সকালে পূর্ণিমা তিথির সঙ্গে আরম্ভ হয়ে যাবে এবং রাত ৯ টা ২ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। যদিও রাখি বন্ধনে তৈরি হওয়া একাধিক শুভ যোগ এই উৎসবের গুরুত্ব বাড়াবে।জ্যোতিষ গণনা অনুসারে রাখিবন্ধনের ৭০০ বছর পর পঞ্চ মহাযোগ তৈরি হতে চলেছে। ৩০ অগাস্ট সূর্য, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র এবং শনি গ্রহ পঞ্চ মহাযোগ নির্মাণ করতে যাচ্ছে। গ্রহের এই পরিস্থিতি বুধাদিত্য, বাসরপতি এবং শশ যোগ তৈরি হবে।

জ্যোতিষবিদদের বক্তব্য যে কোনও শুভ দশায় রাখি বন্ধনের শুভ ফল কয়েক গুণ বেড়ে যায়। রাখি পূর্ণিমার দিন নানা মাঙ্গলিক কাজের জন্যই বেছে নেওয়া হয়। কিন্তু এ বার অশুভ যোগের কারণে রাখি বাঁধার সময়ও পিছিয়ে দিতে বলা হচ্ছে। এ বছর রাখি বন্ধনের উৎসব ৩০ এবং ৩১ অগাস্ট দুদিন ধরে পড়েছে। এর মধ্যে ভদ্রকাল অবধি খেয়াল রাখতে হবে যে ভাইকে রাখি বন্ধন পালন করেন তাহলে রাত নটা বেজে দুই মিনিটে ভদ্রা সমাপ্ত হওয়ার পর রাখি বাঁধবেন। যদি আপনি ৩১ অগাস্ট রাখি বন্ধন পালন করতে চলেছেন, তাহলে সকাল ৭:০০ টা বেজে ৫ মিনিটের আগে ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধতে হবে।

এরপরেই শ্রাবণ পূর্ণিমার সঙ্গে রাখিবন্ধনের উৎসব সমাপ্ত হয়ে যাবে।শাস্ত্র মতে রাখি উৎসব শেষ হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে রাখি খুলে রাখতে নেই। আবার রাখি খোলার পর তা যেখানে সেখানে রেখে দেবেন না। কোনও পবিত্র স্থানে যত্ন সহকারে রাখিটি রেখে দিন। রাখির পর এক বছর সেটি যত্নে রেখে দেবেন। পরের বছর ভাইকে নতুন রাখি বাঁধার পর তা পবিত্র নদীতে প্রবাহিত করে দিন। এর ফলে ভাই-বোনের সম্পর্ক মজবুত হবে এবং ভালোবাসা বাড়বে।
বি:দ্র: সমস্ত বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংগ্রহীত করা হয়েছে। Bengalview এর সত্যতা যাচাই করেনি।
