জঙ্গলের পথ পেরিয়ে নির্ভয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পড়ুয়ারা

হাতি তাড়াতে বনদপ্তরের ‘এসকর্ট’, জঙ্গলের পথ পেরিয়ে নির্ভয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পড়ুয়ারা

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: সোমবার থেকে রাজ্যে শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা। পাহাড় থেকে সমতল— সর্বত্রই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা। তবে উত্তরবঙ্গের কার্শিয়াং ডিভিশনের বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকাগুলোতে এবার পরীক্ষার প্রস্তুতিতে যোগ হয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা। বুনো হাতির আতঙ্ক কাটিয়ে পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে বনদপ্তর।

​পরিসংখ্যানে দার্জিলিং জেলা

​এ বছর দার্জিলিং জেলায় মোট ৪১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। বনদপ্তরের তথ্য ও পর্ষদ সূত্রে জানা গেছে:

  • মোট পরীক্ষার্থী: ১৭,৫০০ জন।
  • ছাত্র সংখ্যা: ৭,৫১০ জন।
  • ছাত্রী সংখ্যা: ৯,৯৯০ জন।

​উল্লেখ্য, এ বছর জেলার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা নারী শিক্ষার প্রসারে এক ইতিবাচক ইঙ্গিত।

​হাতির হানা রুখতে বনদপ্তরের রক্ষাকবচ

​কার্শিয়াং ডিভিশনের অন্তর্গত পানিঘাটা, টুকরিয়াঝাড় এবং বাগডোগরা রেঞ্জ সংলগ্ন এলাকাগুলো মূলত হাতিপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। জঙ্গলঘেরা এই গ্রামগুলো থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার পথে মাঝেমধ্যেই বুনো হাতির দল চলে আসে। পরীক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি এড়াতে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা:

  1. টহলদারি (Patrolling): জঙ্গল সংলগ্ন রাস্তায় বনকর্মীরা প্রতিনিয়ত নজরদারি চালাচ্ছেন। সাইরেন ও বিশেষ গাড়ির মাধ্যমে হাতি দূরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
  2. নিরাপদ পরিবহন: বন্যপ্রাণীর আতঙ্ক কমাতে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে বিশেষ বাস ও গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে সংগ্রহ করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া এবং পরীক্ষা শেষে পুনরায় নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন বনকর্মীরা।
  3. কুইক রেসপন্স টিম: যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি রেঞ্জে তৈরি রাখা হয়েছে বিশেষ কুইক রেসপন্স টিম।

​স্বস্তিতে পড়ুয়া ও অভিভাবকরা

​জঙ্গলের পথ দিয়ে হেঁটে বা সাইকেলে পরীক্ষা দিতে যাওয়া সবসময়ই আতঙ্কের ছিল। কিন্তু বনদপ্তরের এই মানবিক উদ্যোগে খুশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল। এক পরীক্ষার্থীর কথায়, “হাতির ভয়ে খুব চিন্তায় ছিলাম, কিন্তু বনদপ্তরের গাড়ি আমাদের নিতে আসায় এখন অনেকটা নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দিতে পারছি।”

​প্রশাসনের এই সমন্বিত প্রয়াস প্রমাণ করে দিল যে, প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশেও শিক্ষার পথ মসৃণ করতে সরকার ও বনদপ্তর বদ্ধপরিকর।

Bengal View
Author: Bengal View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *